প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং
শহীদ আমানতের সমাধিসৌধে অশ্রুসজল দোয়ায় রাজপথের সহযোদ্ধা আশা

“২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এক নদী রক্ত আর অগণিত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল নতুন স্বাধীনতা। সেদিন বিকেলে পরিবারকে না জানিয়ে ঢাকার শাহবাগে সরকার পতনের বিজয় মিছিলে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে একবুক স্বপ্ন নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন আমানত। কিন্তু সেই মিছিল থেকে আর ঘরে ফেরা হয়নি তার। স্বৈরাচার পতনের আনন্দের মাঝেই ঘাতকের বুলেটে নিভে যায় এক উদীয়মান তরুণ রাজনৈতিক প্রাণ।
নিখোঁজের দীর্ঘ ৯ দিন পর ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের হিমাগার ঘেঁটে ১৪ আগস্ট পাওয়া যায় বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া আমানতের নিথর দেহ। সেদিন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পড়ে থাকা সবশেষ অজ্ঞাত লাশের শনাক্তকরণেই শেষ হয় একটি পরিবারের অপেক্ষার প্রহর।
জুলাই-আগস্টের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সোচ্চার ছিলেন আমানত। ৫ আগস্ট শাহবাগে নামার আগে ফেসবুকে তার শেষ আবেগঘন বার্তাটি ছিল-“পুরো বাংলাদেশ আজ মুক্তির দাবিতে একতাবদ্ধ। এক নদী রক্ত পেরিয়ে এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে তারা। এখন তারা মৃত্যুর ভয় ভুলে গেছে। যেকোনো অন্যায়, জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে? দেশের মানুষের জন্য, দেশ জালিম স্বৈরাচারমুক্ত করার জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিলে আল্লাহর কাছেই সরাসরি এর প্রতিদান পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।”*
নিজের দেওয়া সেই বার্তার সত্যতা রেখেই শাহবাগে রাজপথ রক্তে ভাসিয়ে শাহাদাত বরণ করেন তিনি। পরবর্তীতে জানা যায়, তার সাথে থাকা প্রিয় মোটরসাইকেলটিও পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছিল।
সেই আমানতের দ্বিতীয় শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিস্থলে ছুটে গিয়েছেন রাজপথের সহযোদ্ধা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আমানতের সমাধির পাশে দাঁড়াতেই বাষ্পরুদ্ধ হয়ে আসে তার কণ্ঠ। চোখজুড়ে টলমল পানি নিয়ে দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে সহযোদ্ধা বন্ধুর রুহের মাগফিরাত ও জান্নাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে আবেগে আপ্লুত আবুল কাউসার আশা বলেন, “আমানত শুধু আমার একজন বন্ধু বা রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিল না, সে ছিল এই দেশের অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা।
৫ আগস্ট যখন পুরো দেশ বিজয়ের আনন্দে মেতেছিল, তখন আমার ভাই আমানত ঢাকার রাজপথে রক্ত ঢালছিল। স্বৈরাচারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের সূর্যটা ও দেখে গেছে, কিন্তু সেই স্বাধীনতার বাতাস বেশিক্ষন উপভোগ করতে পারল না।”
তিনি আরও বলেন, “মর্গের শেষ নিথর দেহটি পর্যন্ত আমানতের অপেক্ষায় কেঁদেছে। ওর বাইক জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, শরীর ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে—কিন্তু ওর আদর্শকে তো তারা পুড়িয়ে মারতে পারেনি! আমানত আজ আমাদের অনুপ্রেরণা।
যে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমানত নিজের রক্ত দিয়ে গেল, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আমরা সেই বাংলাদেশ রক্ষা করব। ওর এই মহান আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নারায়ণগঞ্জ আপডেট